Indian History

রসকদম্ব এর রহস্য !!

তখন মালদা ছিল গৌড়। সুলতান হুসেন শাহের আমলে গৌড়ে এসেছিলেন চৈতন্যদেব। কেলিকদম্ব গাছের নিচে বসে তিনি দীক্ষা দিয়েছিলেন রূপ আর সনাতনকে। কথিত আছে, সেই কদম্ব গাছকে স্মরণ করে তৈরি এই মিষ্টি। দেখতে ঠিক কদম ফুলের মতো। নাম রসকদম্ব। স্বাদে অতুলনীয়। ওপরে ক্ষীরের প্রলেপ। ভেতরে রসগোল্লা। ক্ষীরের ওপর পোস্ত।

 

মালদায় একসময় বিখ্যাত ছিল হালুয়া পট্টি আর টাড়ার খাজা। দুটোই সুলতানি আমলের মিষ্টি। আর ছিল মনাক্কা। বেশ কয়েক বছর হল হালুয়া পট্টি আর খাজা পাওয়া যায় না। অনেকে বলেন, সুলতানি আমলের শেষের দিক থেকে বিলুপ্ত হতে শুরু করেছিল এগুলি। তবে, রসকদম্বের চাহিদা বাড়তে থাকে। বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান হোক, অন্নপ্রাশন হোক, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া হোক, বাজার সেরে বাড়ি ফেরা হোক – রসকদম্ব চাই-ই চাই। জেলা ছাড়িয়ে রাজ্য, রাজ্য ছাড়িয়ে দেশ, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ – সব জায়গাতেই রসকদম্বের সুনাম। মালদায় এলে রসকদম্বের খোঁজ করবেন না এমন মানুষ দুর্লভ।

রসকদম্বে থাকে পোস্ত। মালদায় পোস্ত চাষ হয়, তাই রসকদম্বের দাম সস্তা। পিস ৬ টাকা আর ১০ টাকা। শহর জুড়ে দোকান। তবে সেরাটা পেতে গেলে যেতে হবে নেতাজি সুভাষ রোডে। মালদা শহরের চারশো বিশ মোড়ের কাছে। সেরা দোকান রতন সুইটস। সবাই একডাকে চেনে। তবে মনে রাখতে হবে, সেরাটা পেতে গেলে, একটু ধৈর্যও প্রয়োজন। ফ্রিজে না রেখে ১৫ দিন খাওয়া যায়। নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। পুজোর মরশুমে তো কথাই নেই। লম্বা লাইন। চাহিদা এতটা থাকে যে কারিগরদের কালঘাম ছুটে যায়।

 

১৬০০ খৃষ্টাব্দে প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের শেষ সুলতান ছিলেন সুলেমান কুরবানি। সুলতানের বংশধররা রাজধানী গৌড়কে সরিয়ে নিয়ে যান টাড়ায়। সে সময় মিষ্টির কারিগররা যে খাজা তৈরি করতেন তার নাম ছিল টাড়ার খাজা। মালদা থেকে অনেক প্রাচীন মিষ্টি হারিয়ে গেছে কিন্তু রসকদম্বের চাহিদা বেড়েছে, শোনা যায় রসকদম্বের আজকের যে রূপ তা তৈরি হয়েছিল ১৮৬১ সালে।

মালদার মেহেরপুরের কারিগররা নতুন রূপ দেন। রসগোল্লার পুর দেওয়া শুরু তখন। সেই প্রাচীন ঘরানা আজও বদল হয়নি। এতকাল পরেও সেই ঐতিহ্য রয়েছে। তবে ইদানীং পোস্তর দাম বেড়েছে, তাই অনেকে পোস্তর বদলে দিচ্ছেন চিনি। পুরানো কারিগররা অবশ্য চিনি দেন না। রতন সুইটসের কর্ণধার রতন ঘোষ বললেন, পূর্বপুরুষের আমল থেকেই তাঁরা রসকদম্ব তৈরি করেন। মালদার মানুষ ভাবেন, বাড়িতে রসকদম্ব না থাকলে বোধহয় কৌলিন্য হারাতে হবে।

 

What's your reaction?

Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × four =

Indian History

যেভাবে এক বাঙালির কৃতিত্ব চুরি করেছিল ব্রিটিশরা

সিন্ধু সভ্যতার নামকরণটা একান্তভাবেই ঘটেছে এই সভ্যতার প্রত্ন-নিদর্শনগুলিকে খুঁজে পাওয়ার উপরে ভিত্তি করে। এই সভ্যতার ...