World History

একেই বলে মনের জোর…

ফটোতে যাকে দেখছেন তার নাম লিওনিড রোজোগভ। বয়স সাতাশ বছর। তিনি নিজেই নিজের সার্জারি করেছিলেন ১৯৬১ সালের পয়লা মে। সময় বেলা দুটো। তীব্র হিমশীতল ঠাণ্ডা, বাইরে বিরামহীন তুষার ঝঞ্ঝা।

জায়গাটা ছিল আন্টার্টিকায় সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীন নোভোলাজারেভস্কায়া মেরু গবেষণা কেন্দ্র। এই ভদ্রলোক ছিলেন পেশায় চিকিৎসক। দুইদিন ধরে সাংঘাতিক পেটের ব্যথা। গায়ে জ্বর, পেটের ডানপাশের তলার দিকটা ফুলে টনটন করছে। এই প্রায় প্রাণহীন বরফের উপত্যকায়, তিনি আটমাস হল এসেছেন। আশেপাশে কোন ডাক্তারের চিহ্ন নেই।

তিনি একপ্রকার প্রায় নিশ্চিত যে এটি এ্যাপেন্ডিসাইটিস। এ্যাপেন্ডিসাইটিস এমন কিছু মারাত্মক ব্যাপার নয় বটে। তবে যদি ফেটে যায়, আর ফেটে গিয়ে সংক্রমণ হয়ে যায়, তবে প্রাণসংশয়ও হতে পারে। একটাই উপায় এবং তা হল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওটাকে কেটে বাদ দেওয়া। মানে সার্জারি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সার্জারি করবে কে.? কাছাকাছি সোভিয়েত সাহায্য বলতে ১৬০০ কিলোমিটার দূরের মিরনি গবেষণা কেন্দ্র। কোন উড়ানের সুবিধা নেই। কারণ মারাত্মক মরুঝড়ের কারণে আন্টার্টিকার এসব জায়গায় হেলিকপ্টার চালানো যায় না।

অগত্যা, সিদ্ধান্তটি নিয়েই ফেললেন লিওনিড। এযাবৎ কেউ যা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। নিজের সার্জারি নিজেই করবেন তিনি। সাথে নিলেন দুইজন। ঠিক হল, তাঁরা ছুরি, কাঁচি ইত্যাদি ধরিয়ে দেবেন আর আয়নাটি ধরে থাকবেন। লোকাল এ্যানাস্থেশিয়ার সাহায্য নিলেন লিওনিড। তারপর আধশোয়া হয়ে ডানদিকের তলপেটে প্রথমত দশ বারো সেন্টিমিয়ার পেটের চামড়া কেটে ফেললেন। তলার ফ্যাসা ও পেশী ইত্যাদি নিয়মমাফিক কেটে পৌঁছে গেলেন অকুস্থলে। এইখানে একটা ঝামেলা বাঁধল। আয়না দেখে কাটতে গিয়ে একটু এদিক ওদিক হয়ে যাওয়ায় কেটে ফেললেন বৃহদান্ত্রের কিছুটা। সেটি আবার সেলাই করতে হল।

ইতিমধ্যে তাঁর বেশ দুর্বল লাগতে শুরু করেছে, মাথাটাও বেশ ঝিমঝিম করছে। যাই হোক, আয়নায় এ্যাপেনডিক্সটা দেখতে পেলেন এবার। গোড়ার কাছটা কালো হয়ে ঢোল হয়ে আছে। আর একটু সময় গড়ালেই আর দেখতে হত না.! ওটাকে কেটেকুটে আবার সব সেলাই করে উঠতে চারটে বেজে গেল। এইভাবে পৃথিবীর প্রথম সেল্ফসার্জারির উদাহরণ তৈরী হয়ে গেল সেইদিন।

দুই সপ্তাহের মধ্যেই লিওনিড একেবারে সুস্থ হয়ে গেলেন। মারাত্মক ঠাণ্ডার একটা সুবিধেও আছে। সংক্রমণ হয় না অত সহজে। তবে খবরটা চাউর হয়ে গেল আর অবধারিতভাবে আলোড়ন তুলল, বিশেষত নিজের দেশে। সোভিয়েত সরকার ঐ বছরই ‘অর্ডার অফ দ্য রেড ব্যানার অফ লেবার’ সম্মানে ভূষিত করলেন তাঁকে।

উনিশশো বাষট্টির অক্টোবরে অভিযান শেষ করে দেশে ফিরলেন লিওনিড। এম ডি করলেন সার্জারিতে। পরবর্তীতে সেন্ট পিটার্সবার্গ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে সার্জারি বিভাগের হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট হন তিনি……দুহাজার সালে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয় সেন্ট পিটার্সবার্গেই।

 

Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by me.

আমাদের Website www.EsoGolpoKori.co.in কে Bookmark করে রাখো ।

 

What's your reaction?

Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0

You may also like

2 Comments

  1. wawwwww…. ami .. sab jaygay… eta share korchi… and .. what a website… akta galpo sono r akta galpo paro…. oooh… puro jome gelo… thanksss

    1. thanks a lot… be with us!!

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − three =

পাতার অভিশাপ

১৪৯২ সাল, কলম্বাস পা রাখলেন সভ্য জগত থেকে বিচ্ছিন্ন এক নতুন ভূখণ্ডে। সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীরা ...