Indian History

ভূতচতুর্দশী ও বাঙালির ভুতেরা !!

বাঙালির কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিন পালন করে ভূতচতুর্দশী। এই দিন নাকি অশরীরী আত্মা, যাদের আমরা দেখতে পাই না কিন্তু অনুভব করি, তারা নাকি আমাদের খুব কাছে নেমে এসে আমাদের সঙ্গে মিশে যায়। এই রীতি কিন্তু পাশ্চাত্য দেশেও পালন করা হয়। পাশ্চাত্যের এই রীতিকে বলে— Halloween রীতি। সেই রীতির মতো আমরাও মনে করি কালীপুজোর আগের দিন রাত হল ভূতেদের রাত, ভূতচতুর্দশীর ভয়ঙ্কর তমসাবৃত রাত্রিকাল।

 

বাঙালি ও ভুতের আলাপ

(এখানে বিভিন্ন গল্প গুলি পড়ুন)

এই দিনে ভূতেদের আগমন হয়, এই কথা কেউ বিশ্বাস করতে পারেন, আবার না-ও পারেন। কিন্তু ভূতচতুর্দশী পালন আমাদের বাঙালির একটা উৎসব, সংস্কার, লোকবিশ্বাস। সুসংহত সমষ্টি যে সমস্ত বিশেষ বিশেষ আচার-আচরণ ক্রিয়াকর্মাদি কর্তব্য-অকর্তব্যের মধ্যে দিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সমাজের সকলের ক্ষেত্রে শুভাশুভ মঙ্গলজনিতবোধ জড়িত থাকে, তাকেই আমরা লোকবিশ্বাস বলি। ইংরেজির ‘Folk Belief’-ই হল আমাদের দেশের লোকবিশ্বাস। যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালন করা হয়ে থাকে। এই রকমই একটা লোকবিশ্বাস হল ভূতচতুর্দশী তিথি। সে দিন যত প্রকারের ভূত রয়েছে, তাদের আগমন হয় আমাদের আঙিনায়।

বাঙালি জাতির লোকসংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসে ভূত অনেকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে। বাঙালির গল্পে, সিনেমায়, রূপকথা, লোককথায় ভূতের প্রবেশ দীর্ঘদিনের। গা ছমছম করা ভূত-পেত্নির গল্পের আকর্ষণে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই আকর্ষিত হয়। বাংলা সংস্কৃতিতে ভূত বাংলা লোকসাহিত্যে ভূত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাতন এবং নতুন উভয় বাংলা রূপকথায় প্রায়ই ভূতের ধারণা ব্যবহার করা হয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যেও প্রায়ই ভূতের উদাহরণ পাওয়া যায়। বিশ্বাস করা হয়, ভূত হল সেই সব অশরীরি আত্মা যারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে শান্তি খুঁজে পায়নি (যাদের অতৃপ্ত আত্মাও বলা হয়ে থাকে) বা পৃথিবীতে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে (যেমন খুন, আত্মহত্যা বা দূর্ঘটনা)। এছাড়াও বিশ্বাস করা হয়, অন্যান্য জীবজন্তু বা প্রাণীও তাদের মৃত্যুর পরে ভূতে পরিণত হতে পারে। বাংলায় ভূতকে মাঝে মাঝে প্রেতাত্মা (সংস্কৃত) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। প্রেতাত্মার নারীবাচক শব্দকে পেত্নী হিসেবে এবং পুরুষবাচক শব্দকে প্রেত বলা হয়ে থাকে।

বাঙালির গল্পকথায় নানা নামে নানা প্রকারের ভূতের অবয়ব তৈরি করা হয়েছে। বাংলা সংস্কৃতিতে অনেক ধরনের ভূতের বিশ্বাস রয়েছে; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো,

পেত্নী: পেত্নী হলো নারী ভূত যারা বেঁচে থাকতে কিছু অতৃপ্ত আশা ছিল এবং অবিবাহিতভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। পেত্নী শব্দটি সংস্কৃত প্রেত্নী শব্দ থেকে এসেছে (পুরুষবাচক শব্দ প্রেত)। এসব ভূত সাধারনত যে কোন আকৃতি ধারন করতে পারে, এমনকি পুরুষের আকারও ধারণ করতে পারে। এসব ভূত সাধারনত বেঁচে থাকতে কোন অপরাধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর অভিশিপ্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে। পেত্নীরা সাধারনত ভীষণ বদমেজাজী হয়ে থাকে এবং কাউকে আক্রোমনের পূর্ব পর্যন্ত স্পষ্টতই মানুষের আকৃতিতে থাকে। পেত্নীদের আকৃতিতে একটিই সমস্যা রয়েছে, তা হলো তাদের পাগুলো পিছনের দিকে ঘোরানো।

শাকচুন্নি: শাকচুন্নি শব্দটি সংস্কৃত শব্দ শাকচুরনী থেকে এসেছে। এটা হলো বিবাহিত মহিলাদের ভূত যারা বিশেষভাবে তৈরি বাঙ্গালি শুভ্র পোশাক পরিধান করে এবং হাতে শঙ্খ বা শাঁখা পরিধান করে। শাঁখা হলো বাঙ্গালি বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের প্রতীক। শাকচুন্নিরা সাধারনত ধনী বিবাহিত মহিলাদের ভেতর ভর করে বা আক্রমণ করে যাতে করে তারা নিজেরা সেই মহিলার মত জীবন যাপন করতে পারে ও বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারে। লোকগাঁথা অনুসারে তার আম গাছে বসবাস করে।

চোরাচুন্নি: চোরাচুন্নি অত্যন্ত দুষ্ট ভূত। এরা মানুষের অনিষ্ট করে থাকে। সাধারনত কোন চোর মৃত্যুবরণ করলে চোরাচুন্নিতে পরিনত হয়। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়িতে গঙ্গাজলের (হিন্দু সংস্কৃতিতে গঙ্গা জলকে পবিত্র জল হিসেবে বিবেচনা করা হয়) ব্যবস্থা করা হয়।

পেঁচাপেঁচি: এ ধরনের ভূত সচরাচর দেখা যায় না। পেঁচাপেঁচি ভূত ধারনাটি পেঁচা থেকে এসছে এর স্ত্রী বাচক হলো পেঁচি। এরা জোড়া ধরে শিকার করে থাকে। বাংলার বিভিন্ন জঙ্গলে এদের দেখা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এরা সাধারনত জঙ্গলে দুর্ভাগা ভ্রমণকারীদের পিছু নেয় এবং সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় ভ্রমণকারীকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে ও এরা শিকারের মাংস ছিড়ে ছিড়ে খায়।

মেছোভূত: এ ধরনের ভূতেরা মাছ খেতে পছন্দ করে। মেছো শব্দটি বাংলা মাছ থেকে এসেছে। মেছো ভূত সাধারনত গ্রামের কোন পুকুর পাড়ে বা লেকের ধারে যেখানে বেশি মাছ পাওয়া যায় সেখানে বসবাস করে। মাঝে মাঝে তারা রান্নাঘর বা জেলেদের নৌকা থেকেও মাছ চুরি করে খায়। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।

দেও: এধরনের ভূত নদীতে বা লেকে বসবাস করে। এরা লোকজনকে পানিতে ফেলে ডুবিয়ে মারে বলে বিশ্বাস করা হয়।

নিশি: ভূতদের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর হলো নিশি। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে শিকারকে তার প্রিয় মানুষের কন্ঠে নাম ধরে ডাকে এবং বাইরে বেরকরে নিয়ে যায়। নিশির ডাকে সারা দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে আসে না। মনে করা হয় তারা নিজেরাও নিশিতে পরিনত হয়। কিছু কিছু তান্ত্রিক অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে। লোককাহিনী অনুসারে নিশিরা কোন মানুষকে দুবারের বেশি ডাকতে পারে না, তাই কারো উচিত কেউ তিনবার ডাকলে বের হওয়া তাতে নিশির আক্রমণের ভয় থাকে না।

মামদো ভূত: হিন্দু বিশ্বাস মতে, এটি মুসলমান আত্মা।
গেছোভূত: গেছো ভূত গাছে বসবাস করে। গেছো শব্দটি গাছ (বৃক্ষ) শব্দ থেকে এসেছে।

ব্রহ্মদৈত্য: এধরনের ভূত সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং এরা সাধারনত কারো ক্ষতি করে না। এ ধরনের ভূতরা হলো ব্রাহ্মণের ভূত। সাধারনত এরা ধূতি ও পৈতা পরিহিত অবস্থায় বিচরণ করে। এদেরকে পবিত্র ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা অত্যন্ত দয়ালু ও মানুষকে অনেক উপকার করে থাকে। বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে এদের চরিত্র চিত্রায়িত হয়।

আলেয়া: রাতের অন্ধকারে জলাভূমিতে বা খোলা প্রান্তরে আলেয়া দেখা যায়। মাটি হতে একটু উঁচুতে আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে। লোককথায় একে ভৌতিক আখ্যা দেওয়া হলেও বিজ্ঞানীরা মনে করে গাছপালা পচনের ফলে যে মার্শ গ্যাসের সৃষ্টি হয় তা থেকে আলেয়া এর উৎপত্তি। এর ফলে জেলেরা ভুল বুঝে সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যুবরণ করে।

বেঘোভূত: এরা হলো সেইসব মানুষের আত্মা যারা বাঘের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সাধারনত সুন্দরবন এলাকায় এধরনের ভূতের কথা বেশি প্রচলিত কারণ বাঘের অভাশ্রম হলো সুন্দরবন। এসব ভুতেরা জঙ্গলে মধু আহোরনে আগত গ্রামবাসীদের ভয় দেখায় এবং বাঘের সন্নিকটে নিয়ে যেতে চেষ্ঠা করে। মাঝে মাঝে এরা গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর জন্য বাঘের স্বরে ডেকে উঠে।

স্কন্ধকাটা/কন্ধকাটা/কবন্ধ: এই ভূতেরা মাথাবিহীন হয়ে থাকে। সচরাচর এরা হলো সেইসব লোকের আত্মা যাদের মৃত্যুর সময় মাথা কেটে গেছে যেমন, রেল দূর্ঘটনা বা অন্য কোন দূর্ঘটনা। এ শ্রেণীর ভূতেরা সবসময় তাদের হারানো মাথা খুঁজে বেড়ায় এবং অন্য মানুষকে আক্রমণ করে তাদের দাসে পরিণত করে ও তার মাথা খুঁজার কাজে নিয়োগ করে।

কানাভুলো: এ শ্রেণীর ভূতেরা পথিকের গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এবং অচেনা স্থানে নিয়ে আসে। মাঝে মাঝে মানুষ একই রাস্তায় বারবার ঘোরপাক খেতে থাকে। ভূতরা কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌচ্ছার পর তার শিকারকে মেরে ফেলে। এক্ষেত্রে শিকার তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এধরনের ভূতদের রাতে গ্রামের মাঠের ধারে পথের মধ্যে দেখা যায়। শিকার সবসময় একাকী থাকে বা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ডাইনী: ডাইনী মূলত কোন আত্মা নয়, এরা জীবিত নারী। বাংলা লোকসাহিত্যে সাধারনত বৃদ্ধ মহিলা যারা কালো জাদু বা ডাকিনীবিদ্যাতে পারদর্শী তাদেরকেই ডাইনি বলা হয়ে থাকে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ডাইনীরা গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ধরে নিয়ে তাদের হত্যা করে এবং তাদের হাড়, মাংস ও রক্ত খেয়ে ১০০ বছর বেঁচে থাকে।

ঝেঁয়ো পেত্নী: সাধারণত ঝাউগাছে এরা নিজেদের লুকিয়ে রাখে। ভরসন্ধ্যাবেলায় পথিক যদি একা একা সেই ঝাউবন বা জঙ্গল পেরুতে যায়, তখন তাকে ধরে ঝাউয়ের মগডালে চড়িয়ে দেয় এ জাতীয় পেত্নীরা।
ডাকিনী: ডাইনি বুড়িদের অনুগতশ্রেণির ভূত। পাতিহাঁস খেতে খুব ভালোবাসে এরা। থাকে পুকুর বা দিঘীর ধারে কোনো তাল বা নারিকেল গাছে। রাতদুপুরে মেয়েলোকের বেশে ঘুরে বেড়ানো এদের অন্যতম অভ্যাস।

তা হলে এত প্রকারের ভূত, তারা সারা বছর নিজের নিজের কাজে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত থাকে। এরা ভূত হলেও তো এদের রি-ইউনিয়ানের ইচ্ছে হয়। তাই তারা সকলে মিলে কালীপুজোর আগের দিন দল বেঁধে নেমে আসে, মিশে যায় আমাদের মধ্যে। এমনটাই বিশ্বাস। আমরা হয়তো দেখতে পাই না, কিন্তু তাদের অনুভব করেন কেউ কেউ।

তাই ভূতচতুর্দশীর দিন গৃহস্থের অমঙ্গল যাতে না হয় এবং গৃহে অপদেবতা যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেই জন্য বাড়ির চোদ্দো কোনায় চোদ্দোটি প্রদীপের আলো জ্বালানো হয়।

আবার, এটাও বলা হয় যে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা ওই দিন অন্য লোক থেকে ইহলোকে নেমে আসেন। তাঁরা দেখতে আসেন, তাঁদের ছেড়ে যাওয়া বংশের লোকেরা ঠিকমতো বেঁচেবর্তে আছে কিনা। সেই জন্য এই দিনে অনেক বাড়িতে নেমে আসা পূর্বপুরুষের জন্য জল, মিষ্টির আয়োজন করা হয়। আর তাঁরা সেটা গ্রহণ করে অন্যলোকে যাওয়ার সময়ে পথদিশা দেখানোর জন্য বংশের লোকেরা প্রদীপের আলো দেন। মর্তে রেখে যাওয়া সন্তানদের সুখে থাকতে দেখার পর তাঁদের দেওয়া প্রদীপের আলো দেখে তাঁরা আবার অন্যলোকে ফিরে যান, এমনটাই বিশ্বাস।

প্রদীপ জ্বালানো সম্পর্কে অন্য যে সমস্ত মতের প্রচলন আছে তার মধ্যে একটিতে বলা হয়— এই দিনে রামচন্দ্র চোদ্দো বছরের বনবাস কাটিয়ে অযোধ্যায় ফিরে এসেছিলেন। এত বছরের দুঃখের দিনের অবসানের আনন্দে এবং রামচন্দ্রকে স্বাগত জানানোর জন্য সমগ্র অযোধ্যবাসী প্রদীপ জ্বালিয়ে অযোধ্যা নগরীকে আলোকিত করে দিয়েছিল। সেই থেকে এই প্রথা চলে আসছে।

আর আমরা মনে করি, কারও জীবনে যাতে চোদ্দো বছরের অন্ধকার দিন না আসে, সেই কামনায় চোদ্দো প্রদীপ জ্বালানো হয়। কার্তিক মাসের চতুর্দশীতেই আবার জৈনদের ধর্মগুরু মহাবীর মোক্ষ লাভ করেছিলেন এবং শিখদের ষষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দ-সহ বাহান্ন জন রাজা এ দিন মুঘলদের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন বলে সেই দিনটিকে স্মরণে রেখে জৈন ও শিখ এই দুই ধর্মের মানুষেরাও অন্ধকার আর অজ্ঞানতাকে দূরে সরিয়ে রেখে জ্ঞানের, সত্যের পথে জয়ের হেতু তাঁরাও আলোর উৎসবে শামিল হন।

বাঙালিদের মধ্যে ভূতচতুর্দশীর দিন সন্ধ্যার সময়ে চোদ্দো প্রদীপ দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। শুধু সেটাই নয়, দুপুরের খাদ্য তালিকাতেও থাকে বিশেষ এক পদ, চোদ্দো শাক। চোদ্দো শাকে থাকে ওল, কেও, বেতো, কালকাসুন্দি, নিম, সরষে, শালিঞ্চা, জয়ন্তি, গুলঞ্চ, পলতা, ঘেটু, হিঞ্চে, শুষুনী। অনুমান করা হয়ে থাকে, আগেকার দিনে যখন চিকিৎসা ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না, তখন শীতের মরসুম আসার আগে হেমন্তে ঋতুতে এই সময় শীতের পরশ নিয়ে আসত। হেমন্তে কালে হালকা শীতের আগমনে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাতে গড়ে ওঠে, তাই এই সময়ে মরসুমি চোদ্দো রকম শাকের রান্না খাওয়া হত।

বর্তমান কালে চোদ্দো রকমের উপরে উল্লিখিত শাকের দেখা না পাওয়া গেলেও কালীপুজোর আগের দিন পুরনো রীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য শাকের সংমিশ্রণে চোদ্দো শাক খাওয়া হয়।

সুতরাং, কার্তিকী অমাবস্যায় চোদ্দো শাক, চোদ্দো পুরুষের প্রতি জল নিবেদন, ভূত, মাটির প্রদীপ, টুনি, এলইডি ল্যাম্পের আলো, আতসবাজি, ডাকাতে কালীমাতার পুজো, ঠাকুর দর্শন— এই সমস্ত কিছু নিয়েই জমজমাট হয়ে ওঠে।

 

বাঙালি ও ভুতের আলাপ

What's your reaction?

Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + one =

Indian History

যেভাবে এক বাঙালির কৃতিত্ব চুরি করেছিল ব্রিটিশরা

সিন্ধু সভ্যতার নামকরণটা একান্তভাবেই ঘটেছে এই সভ্যতার প্রত্ন-নিদর্শনগুলিকে খুঁজে পাওয়ার উপরে ভিত্তি করে। এই সভ্যতার ...